জোড়া গোলে আর্জেন্টিনার মাটিতে ‘লাস্ট ড্যান্স’ রাঙালেন মেসি
admin
5th, September, 2025
আর্জেন্টিনা ৩-০ ভেনেজুয়েলা
আর্জেন্টিনা দলের গা গরমের সময় দৃশ্যটা চোখে বিঁধতে পারে। জাতীয় দলের কালো জ্যাকেট পরে স্ট্রেচিং করছিলেন লিওনেল মেসি। একটু ভালা করে তাকাতেই বোঝা গেল, বাইরে থেকে দেখতে গা গরম করা মনে হলেও ভেতরে–ভেতরে আরও কিছু একটা হচ্ছে—তোলপাড়!
ক্যারিয়ারজুড়ে শুধু গোল করেছেন আর গোল বানিয়েছেন। কোনোকিছু ঠেকাতে তো শেখেননি। চোখের পানি আটকাতে কষ্ট হচ্ছিল মেসির। চোখ দুটি ভেজা ভেজা, যেমনটা এস্তাদিও মনুমন্তোলের টইটম্বুর গ্যালারিরও। আর্জেন্টিনার জার্সিতে দেশের মাটিতে তাঁর প্রথম ম্যাচটা ছিল ২০ বছর আগে এই স্টেডিয়ামেই। ২০০৫ সালের ৯ অক্টোবর। সেটাও ছিল বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ঘরের মাঠে আর্জেন্টিনার শেষ ম্যাচ। দুই দশক পর সেই একই স্টেডিয়াম ও একই ‘মঞ্চ’—শুধু অনুভূতিটা আলাদা; আর্জেন্টিনার জার্সিতে দেশের মাটিতে এটাই তাঁর শেষ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ। এএফএ প্রীতি ম্যাচ আয়োজন না করলে নিজের মানুষদের সামনে, নিজের মাটিতে এরপর আর কখনো জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপানো হবে না!
মনুমেন্তালের গ্যালারিতে উৎসবের ঢাকে তাই বিদায়ের রাগিনীর সুরও বেজেছে। মেসি সেই সুরে ভেসেই শুনিয়েছেন চেনা গানটি। বলা ভালো, দর্শকেরাই তাঁর হয়ে গেয়েছেন, ‘ওলে, ওলে, ওলে…মেসি, মেসি, মেসি!’
মেসি গোল করলে যে গানটা আর্জেন্টাইনদের জাতীয় সংগীত, কিংবদন্তি সেই সংগীত বাজালেন একবার। কিন্তু দর্শকেরা গাইলেন ম্যাচ শুরুর বেশ আগে থেকে শেষ পর্যন্ত। যদিও এই ম্যাচ কোনো দিন শেষ হোক, সেটা সম্ভবত কোনো আর্জেন্টাইন-ই চাননি!
কিন্তু শুরু থাকলে তার শেষ প্রকৃতিরই বেঁধে দেওয়া নিয়ম। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ঘরের মাঠে শেষ ম্যাচ তো বটেই, জাতীয় দলের জার্সিতে ঘরের মাঠে শেষ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচটা তাই খেলে ফেললেন মেসি। আর এর মধ্য দিয়ে পৃথিবীর দু-একটি প্রজন্মও হয়তো টের পেল, মেসিতে সওয়ার হয়ে দেখতে দেখতে তাদেরও আসলেই বয়স হয়ে গেছে। কিন্তু ছবিটা পাল্টায়নি। ৩৮ বছর বয়সেও মেসি পাল্টাতে দেননি। ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয়ে স্কোরশিটে তাঁর নাম, কিন্তু সেটা যে আসলে গোলের নামে তুলির আঁচড় নয়, দেখলে বিশ্বাস হবে না।
1st comment
2nd comment